সাতক্ষীরায় লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে তোপের মুখে এসিল্যান্ড

সাতক্ষীরায় লকডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কাপড়ের দোকানের কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের ফাল্গুনী বস্ত্রালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের করা হয়।  এ সময় লকডাউন

সাতক্ষীরায় লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে তোপের মুখে এসিল্যান্ড
সাতক্ষীরায় লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে তোপের মুখে এসিল্যান্ড

মোঃ  সাইদুজ্জামান শুভ ( সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি):
সাতক্ষীরায় লকডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কাপড়ের দোকানের কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের ফাল্গুনী বস্ত্রালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের করা হয়।  এ সময় লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাতক্ষীরা সদরের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. আসাদুজ্জামান। কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে উত্তেজিত কর্মচারীদের শান্ত করেন।

সাতক্ষীরা বস্ত্র ব্যবসায়ী দোকান কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবুল হাসান  বলেন, দোকানপাট বন্ধ রাখলে আমরা খাবো কী? দোকানের মালিকরা আমাদের বেতন দেবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পাবেন, তাদের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের উপায় কী? আমাদের সংসার রয়েছে। বউ-বাচ্চা সবাই না খেয়ে মরবে। সেই কথা কেউ বলে না।

তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই- লকডাউন দেওয়া হোক তবে একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হোক। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা বা যে কোনো সময়। সে সময়টুকু বেচাবিক্রির মাধ্যমে যেন আমরা বেতন বুঝে পাই। কেননা একজন দোকান মালিক জমি বিক্রি করে আমাদের বেতন দেবেন না। এই দোকান থেকে বেচাবিক্রি করে আমাদের বেতন দেবেন। সেই পথটি করে দেওয়া হোক। 

জানা গেছে, দোকান খুলে রাখার দাবিতে দুপুরে সাতক্ষীরার বড়বাজার সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শত শত কর্মচারীরা। পরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেন তারা।কর্মচারীরা বলেন, আমরা অবৈধ লকডাউন মানি না, মানবো না। পেটের দায়ে দোকানে কাজ করি। সেই দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা খাবো কী?  

কর্মচারীরা জানান, লকডাউনে দোকান খোলা রাখায় জরিমানা করতে ফাল্গুনী বস্ত্রালয়ে যান এসিল্যান্ড মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় কর্মচারীরা চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। পরে জরিমানা না করেই ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যান এসিল্যান্ড। 

সাতক্ষীরা সদরের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি দোকান বন্ধ করার জন্য সেখানে অভিযানে যাই। সেখানে যাওয়ার পর দোকানের শ্রমিক কর্মচারীরা আমাকে ঘিরে ধরে তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত আমার কিছু করার নেই। আমি তাদেরকে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলার জন্য বলে ঘটনাস্থল থেকে চলে এসেছি। 

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দীন বলেন, দোকানের কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। আমরা তাদের শান্ত করেছি।