শনাক্তের হার তিন শতাংশের নিচে নামল

শনাক্তের হার তিন শতাংশের নিচে নামল

নিজস্ব প্রতিবেদক:গত একদিনে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩৮ জন। এতে পরীক্ষার বিপরীতে একদিনে সংক্রমণের হার কমে তিন শতাংশের (২.৯২) নিচে এসেছে, যা গত এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম।এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও দেশে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৫৭৮ জন।

বুধবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত একদিনে যে ১৩ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও দুইজন নারী। মৃতদের মধ্যে ১০-২০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বাকিরা চল্লিশোর্ধ্ব। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ৮ হাজার ১৬২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ২০৬টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৯৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩৮ জন। এতে পরীক্ষার বিপরীতে একদিনে সংক্রমণের হার ২.৯২ শতাংশ হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪.৫৩ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সংক্রমণের হার ৩ শতাংশের নিচে নামলে ভাইরাস আপনা-আপনি চলে যায়। তাই সংক্রমণের বর্তমান হার বজায় রাখতে সবাইকে মাস্ক পরা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেটি ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগী ও শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। পরে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নতুন রোগী শনাক্তের গড় দুই হাজার ছাড়ায়। আর গত ১০ ডিসেম্বর থেকে নতুন রোগী শনাক্ত এবং শনাক্তের হার কম।

নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় গত দুই সপ্তাহ ধরে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। একদিন আগে মঙ্গলবার দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর আগেও টানা ছয়দিন সংক্রমণের হার ছিল ৪ শতাংশের কম।

এ পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে মোট শনাক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে গত এক দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫৭৮ জন রোগী করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩০৬ জন।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গতবছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৯ ডিসেম্বর তা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।