রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ের ‘জয়িতা’ সম্মাননা পেলেন পাঁচ নারী

রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ের ‘জয়িতা’ সম্মাননা পেলেন পাঁচ নারী

রাজশাহী ব্যুরো:আমিনা হকের চার সন্তান। এদের দুজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, দুজন ব্যাংকার। তারা প্রতিষ্ঠিত। আমিনা হক তাদের মানুষের মতো মানুষ করেছেন। তাই এবার রাজশাহী বিভাগীয় ‘জয়িতা অন্বেষণ বাংলাদেশ-২০১৯’ আমিনা হককে শ্রেষ্ঠ সফল জননী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমিনা হকের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া সপুরা এলাকায়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তর বিভাগীয় পর্যায়ের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিশেষ সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে আমিনা হককে শ্রেষ্ঠ জননী ক্যাটেগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে আমিনা হকসহ আরও চারজন নারীকে অন্য চার ক্যাটেগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত প্রত্যেক জয়িতাকে নগদ অর্থসহ, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার আরও ৩৫ জয়িতাকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

বাকি চার নারী হলেন, শিক্ষা ও চাকুরি ক্যাটাগরিতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার হাট গ্রামের মিফতাহুল জান্নাত, সমাজ উন্নয়নে রজশাহী নগরের হড়গ্রাম নতুনপাড়া এলাকার মোসা. সেলিনা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে সামনে অগ্রসরমাণ হিসেবে পাবনার চাটমোহর উপজেলার চকউথুলী গ্রামের মোছা. রোজিনা খাতুন এবং জীবন সংগ্রামে অর্থনৈতিক সফলতায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলীপাড়া গ্রামের সুমনা সুলতানা সাথী শ্রেষ্ঠ হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, সমাজের নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অন্ধকার কাটিয়ে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের পথ প্রদর্শক হিসেবে সামনে থেকে আলো দেখাচ্ছেন জয়িতারা। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিজেরা আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন এবং সকল নারীকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন। তাদেরকে কেউই দমাতে পারবে না।

এবার করোনার কারণে ঢাকা থেকে ভাচ্যুয়ালে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নারী। তাঁদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে, আবার নির্যাতনের পরিমাণও বাড়ছে। এই নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আর এটা বন্ধ করতে হলে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। কোনো নারী যদি নির্যাতিত হয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তার ব্যবস্থা নিতে পারলেই নারী নির্যাতন বন্ধ হবে। আমরা যদি ইভটিজিং বন্ধ করতে পারি, এসিড নিক্ষেপ বন্ধ করতে পারি, তাহলে কেনো নারী নির্যাতন বন্ধ করতে পারবো না? এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেনী, নগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকীর হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি রাজশাহী টি এম মোজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।