মোটা অংকের টাকা নিয়ে চোরাই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন

মোটা অংকের টাকা নিয়ে চোরাই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন

বরিশাল প্রতিনিধি:মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চোরাই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক আইয়ুব আলী আনসারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আইয়ুব আলী আনসারী। আদালতের বিচারক মো. মোহসিনুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে মামলার একাধিক ধার্য তারিখে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আইয়ুব আলী আনসারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।

আইয়ুব আলী আনসারী বর্তমানে বিআরটিএ ঢাকা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠিতে পরিদর্শক এবং সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।

বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠিতে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন আবেদনকারীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের নানা অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বদলি করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আদলত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে বরিশাল বিআরটিএতে পরিদর্শক পদে থাকা অবস্থায় একটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন আবেদনের প্রেক্ষিতে আইয়ুব আলী আনসারী সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়।

পরবর্তীতে দেখা যায়, গাড়িটি ছিল চোরাই। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি প্রতিবেদন দেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা অনুসন্ধানে নামেন। প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরবর্তীতে তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়।

এদিকে, আইয়ুব আলী আনসারী নিজেকে রক্ষা করতে উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও মামলার কয়েকটি ধার্য তারিখে তিনি নিম্ন আদালতে হাজির হননি। এ কারণে আইয়ুব আলী আনসারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। সোমবার আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালতের বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আইয়ুব আলী আনসারীর আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বাচ্চু জানান, আইয়ুব আলী আনসারী জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি মামলার কয়েকটি ধার্য তারিখে আদালতে আসলেও বিচারক ছিলেন না। গত ধার্য তারিখে আনসারী ছিলেন অসুস্থ। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সোমবার তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।