বিধিনিষেধে কাজ নেই ভ্যান চালকদের, পাচ্ছেন না সহায়তাও

বিধিনিষেধে কাজ নেই ভ্যান চালকদের, পাচ্ছেন না সহায়তাও

কুমিল্লা প্রতিনিধি:করোনার বিস্তার রোধে সারাদেশে চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এ সময় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন। বন্ধ দোকানপাটও। মানুষ যথাসম্ভব ঘরে থাকার চেষ্টা করছেন। সীমিত আকারে তিন চাকার যানবাহন চললেও সড়কে নেই তেমন যাত্রী।

এ অবস্থায় কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন কুমিল্লার ভ্যান চালকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজের আশায় বসে থাকেন এক মাত্র অবলম্বন ভ্যানগাড়িটি নিয়ে। সন্ধ্যার পর ফিরে যান খালি হাতে। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কুমিল্লার প্রায় ২০০ শতাধিক ভ্যান চালক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর গাংচর এলাকায় অর্ধশতাধিক সমিল ও ফার্নিচার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চলমান বিধিনিষেধে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর রাজগঞ্জ, চকবার, গর্জনখোলা, মহিলা কলেজ রোড, টমছম ব্রিজ, রানির বাজার ও শাসনগাছা এলাকাসহ নগরীতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে মালামাল বহনকারী প্রায় দেড় শতাধিক ভ্যান চালক বেকার হয়ে পড়েছেন।

তাদের দাবি, বিধিনিষেধে চলাকালে অন্তত তাদের পরিবারের কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে যেন সহায়তা প্রদান করা হয়।

গাংচর এলাকায় কথা হয় ভ্যান চালক মো. শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, চার সন্তান ও স্ত্রীসহ মোট ছয় সদস্যের পরিবার তার। বিধিনিষেধে কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক ভাবে তিনি নুয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোতোয়ালি থানা পুকুরের পশ্চিম পাশে বসে থাকেন কাজের আশায়। কাজ না পেয়ে সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরেন বাসায়।

মো. খাদেম মিয়া নামে আরেক ভ্যানচালক জানান, চলমান বিধিনিষেধ তার হাত খালি। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতাও পাননি তারা। তাই কাজের আশায় সড়কে দিন কাটান তিনি।

গর্জন খোলা এলাকার ভ্যানচালক আবদুল জাব্বার বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে নাই। ভ্যান চালিয়ে ভাত খাই। করোনায় কামায়-রোজগার সব বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রান্সপোর্টে মালামাল আসে না। এ মুহূর্তে মানুষ বাসাবাড়িও পরিবর্তন করে না। তাই সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

গাংচর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী ইলিয়াছ হোসাইন জানান, বর্তমানে সব দোকানপাট বন্ধ। তাই ভ্যানচালকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। এ এলাকায় প্রায় ৪৫ জন ভ্যানচালক রয়েছে। এরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থাকেন কাজের আশায়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জনা ছিল না। তালিকা কিংবা লোকেশন দিলে অবশ্যই তাদের সহায়তা করা হবে।’