পাওনা টাকা না দিয়ে ফোন ব্লক, কৌশলে দুজনকে খুন

পাওনা টাকা না দিয়ে ফোন ব্লক, কৌশলে দুজনকে খুন

গাজীপুর প্রতিনিধি:জাদু দিয়ে টাকা বানানো যায়। সেই কৌশল শেখানোর প্রলোভন দিয়ে হাত-পা বেঁধে পানিতে চুবিয়ে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরে। পাওনা টাকার জেরে এমন নাটকীয় হত্যাকাণ্ডের সাতদিন পর মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার কিসমত দূর্গাপুর মধ্যপাড়া এলাকার মুনসুর আলীর ছেলে রাসেল প্রধান (২৫) ও বগুড়ার ধুনট থানার শৈলমারী গ্রামের সাইদুর সরকারের ছেলে মো. সৈকত সরকার (২৪)।

নিহতরা হলেন, মাহমুদুল হাসান (২০) রংপুরের মিঠাপুর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে ও মো. রাকিব হোসেন (১৮) নীলফামারীরর ডিমলা উপজেলার সাতনাই কলোনী এলাকার আলম মিয়ার ছেলে। উভয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ি আমবাগ শাহানা বেকারির কর্মচারী ছিলেন।

রবিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সম্মেলন কক্ষে প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জিএমপির উপকমিশনার জাকির হাসান।

উপকমিশনার জাকির জানান, গত ৭ জুলাই গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানাধীন বাঘিয়ার চর পরিত্যক্ত ইটভাটার পাশে বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে কোনাবাড়ী থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ওই থানার এসআই তাপস কুমার উজা বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রযুক্তি ও ম্যানুয়েল ইন্টিলিজেন্সের সহায়তায় কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সৈকত সরকারকে গত শনিবার কালিয়াকৈর থেকে আটক করা হয়। পরে সৈকতকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা রাসেল প্রধানকে শনিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রাসেল প্রধান জানান, তিনি নিজে এবং নিহত মাহমুদুল হাসান (২০) ও মো. রাকিব হোসেন (১৮) কোনাবাড়ির বাঘিয়া এলাকায় শাহানা বেকারি নামে একটি কারখানায় কাজ করতেন। মাহমুদুল হাসান এক মাস আগে তার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ধার নেয়। ধারের টাকা চাইতে গেলে মাহমুদুল টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে মাহমুদুল তার মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে রাখে।

গত ১ জুলাই রাসেল গাইবান্ধা থেকে কোনাবাড়িতে এসে পাওনা টাকার জন্য মাহমুদুলকে দুদিন ধরে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে মাহমুদুলের আরেক সহকর্মী রাকিবকে দিয়ে মাহমুদুলের খোঁজ পায়। তারা তিনজন মিলে ৩ জুলাই সন্ধ্যায় মহানগরীর কোনাবাড়ি থানার বাঘিয়ার চর জনৈক আবুল কালাম আজাদের পরিত্যক্ত ইট ভাটার পাশে বিলের কাছে গিয়ে আড্ডা দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে রাসেল কৌশলে জাদুর মাধ্যমে টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে রশি দিয়ে মাহমুদুলের দুই পা ও হাত বেঁধে ফেলে। পরে মাহমুদুলকে টেনে হেঁচড়ে বিলের পানিতে নিয়ে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এ ঘটনা রাকিব তার কারখানার মালিককে বলে দিবে বলে চিৎকার করলে রাকিবকেও পাশে থাকা সিমেন্টের তৈরি সীমানা পিলার দিয়ে মাথায়, বুকে ও পিঠে আঘাত করে হত্যা করে। পরে দুজনের লাশ একই জায়গায় পানিতে ডুবিয়ে লাশের উপর ঘাস ও লতাপাতা দিয়ে ঢেকে দিয়ে রাসে গাইন্ধায় পালিয়ে যায়।

পুলিশ ‍কর্মকর্তা জাকির বলেন, মাহমুদুল হাসানের একটি মোবাইল ফোন রাসেল প্রধান কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় হোটেল কর্মচারী মো. সৈকত সরকারের কাছে বিক্রি করে। পুলিশ ওই মোবাইলের সূত্র ধরে ১০ জুলাই রাতে মো. শৈকত সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাইবান্ধা থেকে রাসেল প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাসেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশ দুটির পরিচয় নিশ্চিত হয়। এছাড়াও হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়।