নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

বরিশাল প্রতিনিধি:এক নারীর (২৮) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতা মো. মুরাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে ওই নারীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত মুরাদ মাহমুদ বরিশালের মুলাদী উপজেলার বানী মর্দন এলাকার মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি ঢাকার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর আটিঁপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। এ সুবাদে ঢাকার মিরপুরের পলাশনগর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি।

এদিকে মুরাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। বিয়ের কথা গোপন করে একাধিক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা জানতে পেরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এর কয়েক বছর পর দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে তালাক দেন।

হয়রানির শিকার ওই নারীর বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়। ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ওই নারী স্বামীর সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করছেন। স্বামীর পাশাপাশি তিনি নিজেও ব্যবসায় যুক্ত। গাজীপুর ও মিরপুরে তার বুটিক ও কাপড়ের দুটি দোকান রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তিনি ও মুরাদ মাহমুদ বরিশালের একই কলেজে পড়ালেখা করেছেন। সেই সুবাদে পূর্বপরিচিত। বছর তিনেক আগে মিরপুরে বুটিকের দোকানে তার সঙ্গে মুরাদের কথা হয়। ধীরে ধীরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস পর মুরাদ তার সঙ্গে দেখা করে নতুন একটি ব্যবসার কথা জানান। বলেন, টাকা খাটাতে পারলে এ ব্যবসায় লাভ হবে। তাকে ওই ব্যবসার অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন। ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে গত দুই বছরে ২২ লাখ টাকা ধার নেন মুরাদ।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রায় তার বাসায় যেতেন মুরাদ। এ সময় গোপনে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, যা তিনি জানতেন না। পরে ব্যবসার কথা জানতে চাইলে টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ২২ লাখ টাকা ফেরত চান। টাকা না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন মুরাদ।

Barishal-(2).jpg

ওই নারী জানান, টাকার জন্য চাপ দিলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুরাদ সোনালী ব্যাংকের মিরপুর-১ নম্বর শাখায় থাকা তার অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এভাবে পরে কয়েকবার চেকটি ডিজঅনার হলে প্রায় ছয় মাস আগে তিনি গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (সিআর নম্বর ৪৫৮/২০) করেন।

হয়রানির শিকার ওই নারী বলেন, মামলার পর সম্প্রতি মুরাদ মাহমুদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর মুরাদ ক্ষিপ্ত হয়ে গোপনে ধারণ করা ছবি তার ছোট ভাই ও দুই চাচার মেসেঞ্জারে পাঠান। এরপর ফোনে মামলা তুলে না নিলে ওই ছবি এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ারও হুমকি দেন। এরপর স্বামীর পরামর্শে পল্লবী থানায় মুরাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। মুরাদ নিজেকে আত্মগোপন করে মামলা ও জিডি প্রত্যাহারে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মুরাদ মাহমুদ জানান, যা ঘটেছে, তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে। ওই নারী এক সময় তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। তারা একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় তার টাকা ফেরত দিতে সময় লাগছে। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

গাজীপুর আদালতে দায়েরকৃত মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা রিতু বলেন, মুরাদের বিরুদ্ধে মামলার পর আদালত সমন জারি করেন। কিন্তু একাধিক সমন জারির পরও মুরাদ উপস্থিত না হাওয়ায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সম্প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।