জাতীয় আপৎকালীন পরামর্শক কমিটি গঠনের প্রস্তাব বিএনপির

জাতীয় আপৎকালীন পরামর্শক কমিটি গঠনের প্রস্তাব বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক:মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত দেশের সব হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। এইসঙ্গে স্বাস্থ্য দ্রুত জাতীয় আপদকালীন পরামর্শক কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে এ দাবি করেন।

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় রোডম্যাপহীন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ভালো অবস্থানে এসেছে সেসব দেশের উদাহরণ টেনে ফখরুল বলেন, যেসব দেশে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, টিকাদান কর্মসূচি, অর্থনৈতিক অবস্থার পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে৷ কিন্তু দেশের ভোটারবিহীন সরকার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেয়নি।

লকডাউনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করে লকডাউন দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এখন লকডাউন অনেকটা হাস্যরসে পরিণত হয়েছে।

এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে আপতকালিন পরামর্শক কমিটিসহ পাঁচটি সমন্বিত দাবি করা হয়।

# দরিদ্র মানুষকে ঘরে রাখার জন্য তাদের ঘরে নগদ কমপক্ষে এককালীন ১৫ হাজার টাকা এবং খাদ্য পৌঁছে দিতে হবে।

# মানুষকে বাইরে বের হবার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

# অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষকে অতি দ্রুত টিকা প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। এজন্য একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট রোড-ম্যাপ প্রনয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে দেশে টিকা উতপাদনের কার্য্কর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

# বর্তমানে সারাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সর্বাত্মক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবারহ, আইসিইউ ও করোনা বেড বৃদ্ধিসহ অত্যাবশ্যকীয় চিকিতসা সামগ্রি ও পর্যাপ্ত চিকিতসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে হবে।

# অনেক বিলম্বে হলেও এখনি দেশে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সকল রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে একটি জাতীয় আপতকালীন পরামর্শ কমিটি গঠন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই পাঁচটি বিষয় করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রধান টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে যে লড়াই সেটা বস্তুত একটি দীর্ঘস্থায়ী লড়াই। অবিলম্বে দরিদ্র, দুঃস্থ ও কর্মহীন জনগোষ্ঠির প্রত্যেককে অবিলম্বে এককালীন নগদ ১৫ হাজার টাকা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, লকডাউন কার্য্কর করতে হলে দিন আনে দিন খায় শ্রেণীর মানুষের কাছে টাকা পৌঁছাতে হবে, খাদ্য পৌঁছাতে হবে তাদের হাতে। সেজন্য এই কাজগুলো করা দরকার এই মুহুর্তে।

করোনার লকডাউনে অভাবে তাড়নায় মুন্সিগঞ্জের দিনমজুর দ্বীন ইসলামের আত্মহত্যা, দিন আনে দিন খায় শ্রেনীর মানুষের দুর্ভোগ, তাদের জীবন-জীবিকার কষ্টের নানা ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারী একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ। ভোট ডাকাত সরকার করোনা যুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তো নেয়নি বরঞ্চ তারা ব্যক্তিগত আচার আচরণ, হিংসা ছড়ানো ও বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে জাতিকে ভয়াবহ বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়ে করোনা যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের পরিবেশ বিনষ্ট করেছে।’

করোনা ক্ষমতাসীনদের জন্য আর্শীবাদ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে সংঘটিত দুর্নীতি আর হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রি চুরির কাহিনী এসব দেখে মনে হয় করোনা সরকার দলীয় লোকজনের জন্য যেন বরং আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। অর্থমন্ত্রণালয়ের এক অবস্থানপত্রে ধরা পড়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রদেয় ৫০ লক্ষের তালিকায় ১৪ লক্ষ ৩৩ হাজার লোকের নামই ভুয়া। আজকের পত্রিকায় একটা খবর আছে যে, ঝিনাইদহে দুই জন কোটিপতিকে আ্পনার এই ত্রাণ দেয়া হয়েছে। একজনের নাম খোকন সরকার আরেক নাম হচ্ছে রাজু দাস। তারা কোটিপতি। একজনের জুয়েলারি আছে, আরেকজনের কোম্পানি আছে।’

করোনা টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে টিকা প্রদানকে গুরুত্ব দিতে হবে। সারা পৃথিবীতে আজকে প্রমাণিত হয়েছে- যেসব দেশ ৭০/৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে তারাই কিন্তু করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।এর কোনো বিকল্প নাই। আমরা লাখে লাখে টিকার হিসাব দেখলে হবে না। এখানে কোটি কোটি টিকা একেক মাসে আসার হিসাব আমরা দেখতে চাই। তাহলেই বাংলাদেশকে করোনার এই ভয়াল গ্রাস থেকে আমরা পরিত্রাণ করতে পারবো, নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। ’

জাতীয় করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন কমিটির আহবায়ক স্থায়ী কমিটি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক বলেন, ‘গত বছর দুই কোটি মানুষের কাছে আমরা সাহায্য পৌঁছিয়ে দিতে পেরেছিলাম। এবার এই দ্বিতীয় টেউয়ের আমরা আগের মতোই ব্যবস্থা নিয়েছি। এবার প্রতিটি জেলায় আমাদের দলের অফিসে হেলথ সেন্টার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় ঔষধ- স্বাস্থ্য সামগ্রি থাকবে। অলিরেডি এই কাজ বেশ কয়েকটি জেলায় শুরু হয়ে গেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি জেলার অফিসে এই হেলথ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ বক্তব্য রাখেন।