গাছ অর্ধেক কেটে অনুমোদন পেতে দরখাস্ত নিয়ে দৌড়ঝাঁপ

গাছ অর্ধেক কেটে অনুমোদন পেতে দরখাস্ত নিয়ে দৌড়ঝাঁপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদন ছাড়াই সরকারি অফিসের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যখন জানাজানি হয়ে যায় তখন গাছটির অর্ধেক কাটা হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তড়িঘড়ি করে জেলার বন অফিসে দরখাস্ত পাঠিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়।

মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা শহরের পাইকপাড়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের মূল ফটকের পাশে একটি বড় কড়ই গাছ ছিল। গাছটির মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গাছটি বিক্রি করে দিতে মঙ্গলবার উপ-সহকারী প্রকৌশলী নির্দেশে কাঠুরে দিয়ে কাটা শুরু হয়। জয়নাল নামের এক ঠিকাদারের দায়িত্বে কাঠুরেরা গাছ কাটছিলেন। দুপুর ঘনিয়ে বিকেল পর্যন্ত গাছটির অর্ধেক কাটা হয়। এরই মাঝে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বন বিভাগে গাছ কাটার আবেদন করেন।

বন বিভাগ অফিস সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি অফিসের কোনো গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এরপর বন বিভাগে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে কাটার অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এই নিয়ম না মেনে নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো গাছটি কেটে ফেলেছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসএফএনটিসির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান-২ মঙ্গলবার জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে কিছুক্ষণ আগে ফোন দিয়েছে বলেছে, একটি গাছ কাটার দরখাস্ত দিয়ে পাঠাচ্ছে। এর আগে তারা গাছ কাটার বিষয়ে কোনো দরখাস্ত দেননি।

এসএফএনটিসির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান-২ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে গাছ কাটার বিষয়ে একটি দরখাস্ত পাঠিয়েছে। সেই দরখাস্ত অনুযায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গাছ অর্ধেক কাটা হয়ে গেছে। তাদের গাছ কাটা জরুরি হলে দরখাস্ত আগেই করা দরকার ছিল।’

তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সামিরা আক্তার রক্সি বলেন, ‘গাছ কাটতে আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। নিয়ম মেনে গাছ কাটা হয়েছে। আমরা বন বিভাগে দরখাস্ত দিয়ে অনুমোদন নিয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে গাছ কাটতে অনুমোদন নিয়েছি। নিয়ম মেনে গাছ কাটা হয়েছে।’