করোনা হাসপাতালে ঠাঁই নাই ঠাঁই দশা

করোনা হাসপাতালে ঠাঁই নাই ঠাঁই দশা

বিশেষ সংবাদদাতা:করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর একটি রাজধানীর ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের ২৭৫টি সাধারণ শয্যা ও ১০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) শয্যা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) এ হাসপাতালের ২৭৫টি সাধারণ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪১৩ জন। ১০ শয্যার আইসিউয়ের একটি শয্যাও খালি নেই। ভর্তি করোনা রোগীদের অনেকের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হলেও শয্যা খালি না থাকায় ওয়ার্ডের হাইফ্লো অক্সিজেনসহ নানাভাবে চিকিৎসা প্রদানের প্রচেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি ও গত তিনদিন যাবৎ দৈনিক গড়ে সাড়ে তিনহাজারেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধির ফলে শুধু কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেই নয়, সরকারিভাবে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষিত প্রায় সব হাসপাতালেই রোগীর চাপে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে আইসিইউ বেড ফাঁকা না থাকায় করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুযন্ত্রণা সইতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে করোনা ডেডিকেটেড ১০টি হাসপাতালের দুই হাজার ৪০১টি সাধারণ শয্যায় বর্তমানে এক হাজার ৮০৬টিতে অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ শয্যায় করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। ২৫ শতাংশ শয্যা খালি থাকলেও খুব সহজে রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তিচ্ছু রোগীদেরকে ফিরিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, আগে করোনা টেষ্ট করে নিশ্চিত হলে তারপর ভর্তি।

এই ১০টি হাসপাতালে সর্বসাকুল্যে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১০৮টি। তার মধ্যে বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি ছিলেন ১০৩ জন অর্থাৎ রাজধানীর সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য মাত্র পাঁচটি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক-নার্স জানান, হাসপাতালে ভর্তি বেশ রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট লাগলে তারা নিরুপায়। এক্ষেত্রে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে তবেই আইসিইউতে চিকিৎসার সুযোগ মেলে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ১০টি করোনা ডেডিগেকেটেড হাসপাতালের মধ্যে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউয়ের ১৬টিতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ১৬টির ১৫টিতে, ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা হাসপাতালের ১০টির ১০টিতে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০টির ১০টিতেই রোগী ভর্তি রয়েছেন। মহাখালীতে ২৫০ শয্যার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৬টির মধ্যে ১৫টিতে, ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ছয়টি শয্যার পাঁচটিতে এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫টির মধ্যে ১৩টিতে রোগী ভর্তি রয়েছেন। মোট ১০৮টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে একটি, ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে একটি, বিএসএমএমইউতে একটি এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে দুটি আইসিইউ শয্যা ফাঁকা রয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর বেসরকারি নয়টি হাসপাতালে ৯২৮টি সাধারণ শয্যার বিপরীতে ৫১২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অপরদিকে ১৮৩টি আইসিইউয়ের বিপরীতে ১৩৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘গত কয়েকদিন যাবৎ যেভাবে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে, এভাবে আগামী ১৫ দিন চললে রাজধানীর হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি করাই দুরূহ হয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।’