করোনায় এবারও বন্ধ ৩শ বছরের পুরনো চড়ক মেলা

করোনায় এবারও বন্ধ ৩শ বছরের পুরনো চড়ক মেলা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:চৈত্র মাসের শেষ দিনটি যেমন মাসের শেষ দিন, তেমনি বছরেরও শেষ দিন। সাধারণভাবে বাংলা মাসের শেষ দিনটিকে বলা হয় সংক্রান্তি। বর্ষ শেষের এই দিনটি ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ নামে পরিচিত।

চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে চড়ক মেলা। প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব এটি। এতে বাঁশ, বেত, প্লাস্টিক, মাটি ও ধাতুর তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ও খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল-ফলাদি বেচা-কেনা হয়।

কিন্তু করোনা এবারও আঘাত হেনেছে চৈত্র সংক্রান্তির সেই মেলায়। করোনা সংক্রমণ রোধে উথলী গ্রামের ৩শ বছরের সেই ঐতিহ্যবাহী চড়ক মেলা এবার হচ্ছে না। কারণ এক জায়গায় বেশি লোকের জমায়েত বা ভিড় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পরামর্শ মেনেই লকডাউন শুরুর পরই মেলা কমিটি মেলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য শ্রী সরজিত কুমার কর্মকার বলেন, চৈত্র মাসের শেষ দিনে সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলায় বিভিন্ন জায়গার মানুষ এসে ভিড় করে। করোনা সতর্কতার জন্যই এ বছর সংক্রান্তিতে মেলা বন্ধ করা হয়েছে।

মেলা কমিটির সদস্য সুনিল কর্মকার বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাঝে চারপাশে শুধু বেদনার প্রতিচ্ছবি। বুকে করোনার ক্ষত নিয়ে আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। আজকের সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে পুরোনো বছর। করোনার কারণে ৩শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা এবার হচ্ছে না।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঈনুল হাসান জানান, আবহমান বাংলার চিরায়ত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই চৈত্র সংক্রান্তি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে এখানে থাকে নানা অনুষ্ঠান উৎসবের আয়োজন। প্রতি বছর নাচ, গান, আনন্দ-উল্লাসসহ নানা আয়োজনে চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় জানালেও বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে গত বছরের মতো এবারও চৈত্র সংক্রান্তিতে থাকছে না কোনো কার্যক্রম।