অবৈধ ড্রেজারে ফসলি জমি খুঁড়ে বালু ব্যবসা

অবৈধ ড্রেজারে ফসলি জমি খুঁড়ে বালু ব্যবসা

নরসিংদী প্রতিনিধি:নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের চন্ডীবর্দী গ্রামে প্রসাশনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে। অভিযোগ আছে ওই গ্রামের জাকির, সাদ্দাম, হারুন জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে সেগুলো বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত বালি পরিবহনে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। ঝুঁকিতে পড়েছে আসপাশের আরও ফসলি জমিও বসত বাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, দুলালপুর ও মাছিমপুর ইউনিয়নে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও আবার রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন অব্যাহত আছে। বালুদস্যুরা প্রথমে মাঠের মাঝখানে কম দামে জমি কেনে। এরপর সেই ফসলি জমি থেকে শুরু করে মাটি বিক্রি। সেই সঙ্গে রাতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে তোলা হয় বালু। তৈরি হয় বিশাল আকাড়ে গর্ত। পরে আশেপাশের জমি ভাঙতে শুরু করে। এরপর ভয় দেখিয়ে ওইসব ফসলি জমি কিনে শুরু করা হয় মাটি-বালু উত্তোলন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুলালপুরের চন্ডীবর্দী গ্রামের জাকির, সাদ্দাম বালু উত্তোলন করে ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহন করেছেন। কয়েকজন সংবাদকর্মীকে দেখে তারা ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দেন। তাদের প্রশ্ন করলে উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরনও করেন। বলেন, প্রসাশন তাদের কিছুই করতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানায়, জাকির, সাদ্দাম, হারুন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত বালু উত্তোলন করে। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হচ্ছে।

দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল হক মেরাজ বলেন, সরকারি আইনকে বৃদ্ধঙ্গুলি দেখিয়ে ফসলি জমি কেটে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। জমির উপরিভাগের মাটি কাটার কারণে উর্বরতা শক্তি কমে যায়। আর বালু উত্তোলন করা হলে ধসে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়ে আরও জমি বিনষ্ট হবে। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান জানান, অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইন অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ। তাই ফসলি জমি কেটে মাটি-বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। জরিমানাসহ বেশ কয়েকটি খননযন্ত্র জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযান চলমান রয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে সব বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।